বর্তমান সময়ে পড়াশোনা অফিসের কাজ ব্যবসা অনলাইন আয় বিনোদন কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সকল ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি কম্পিউটার কেনার পর শুধু ব্যবহার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত সঠিক যত্ন ও ব্যবহার না করলে ধীরে ধীরে কম্পিউটারের গতি কমে যেতে পারে।
ইস্টুরেন্ট ভরে যাওয়া এবং অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার মত সমস্যার সাথে সাথে বিভিন্ন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়ারের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই কম্পিউটার ভালো রাখার সহজ উপায় জানার পর থেকে ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভালো একটি নিউজ হল কম্পিউটার টেক রাখতে সব সময় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত জ্ঞান রাখার প্রয়োজন হয় না। কিছু সাধারণ অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করলেই কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা আমার একটাই ভালো রাখা সম্ভব হয়।
এই এলাকায় কম্পিউটার পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে সফটওয়্যার আপডেট, ভাইরাস থেকে সুরক্ষা, স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা অতিরিক্ত গরম হওয়া প্রতিরোধ এবং নিরাপদে ব্যবহার এ করার উপায় তুলে ধরা হলো।
কম্পিউটার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন : কম্পিউটার ভালো রাখার সবথেকে সহজ উপায় গুলোর একটি হলো এটি পরিষ্কার করে রাখা। দীর্ঘদিন কম্পিউটার পরিষ্কার না করলে ধুলাবালি জমে যায় বিশেষ করে ল্যাপটপের ব্যান্ড ফ্যানের আশেপাশে বাতাস চলাচলে সমস্যা হতে পারে।
কম্পিউটার পরিষ্কার করার সময় এটি বন্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করবেন। তারপর একটি নরম কাপড় দিয়ে মনিটর মানুষ এবং কেসিং এর বাইরের অংশ পরিষ্কার করতে পারেন।
ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ এর ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যদি আপনার পরিমাণ মতো অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে নিজের ভেতরের যন্তাংশ খুলে পরিষ্কার না করে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান এর সাহায্য নেওয়া ভালো।
কম্পিউটার অতিরিক্ত গরম হতে দিবেন না : অতিরিক্ত তাপ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর বিশেষ করে ল্যাপটপ দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার সময় অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। ডেক্সটপে রয়েছে প্রসেসর গ্রাফিক্স কার্ড ও পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কারণে দাগ তৈরি হয়।
ল্যাপটপ বিছানা বালিশ অথবা নরম কাপড়ের উপর রেখে দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করা উত্তম। কারণ এতে করে বাতাস চলাচলের জায়গা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কম্পিউটার রাখার জায়গাটি এমন হওয়া উচিত যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস চলাচল করতে পারে ব্যাংক বা ফ্যানের সামনে কোন বস্তু যেন বাতাস না আটকে দেয়।
যদি কম্পিউটার অস্বাভাবিকভাবে গরম হয় ফ্যানের শব্দ বেড়ে যায় এবং হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে একজন কম্পিউটার অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান এর কাছে নিয়ে যাবেন।
অপ্রয়োজনে সফটওয়্যার রিমুভ করুন : কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় তুলনায় অনেক বেশি সফটওয়্যার ইনস্টল করে রাখলে স্টোরেজ এর জায়গা কমে যেতে পারে। কিছু সফটওয়্যার আবার কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ শুরু করে যার কারণে সিস্টেমের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
তাই আপনার যে সফটওয়্যার গুলো নিয়মিত ব্যবহার না করেন সেগুলো আনইন্সটল করে রাখা অত্যন্ত ভালো। তবে কোন সফটওয়্যার ডিলিট করার আগে সেটির অপারেটিং সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিনা তা ভালোভাবে চেক করে নিবেন।
অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখুন : কম্পিউটার ভালো রাখার জন্য অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সফটওয়্যার বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা ত্রুটি ঠিক করে উন্নত করা এবং নতুন সুবিধা যোগ করার জন্য আপডেট প্রকাশ করে।
তাই আপনার অপারেটিং সিস্টেম করলে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট গুলো প্রতিনিয়ত ইন্সটল করতে হবে। মনে রাখতে হবে আপডেট করার আগে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ব্রেকআপ রাখা একটি ভালো কাজ।
গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এর ব্যাকআপ রাখুন : আপনার কম্পিউটার যত ভালোই হোক হার্ডডিস্ক বা এসএসডি কখনোই নষ্ট হবে না এমন নিশ্চয়তা কখনো কেউ দিতে পারবে না। বিদ্যুৎ সমস্যা হার্ডওয়ার ত্রুটিজনিত কারণে অথবা ভাইরাস এবং দুর্ঘটনা জনিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ভিডিও ছবি এবং আপনার কাজের ফাইল এর একাধিক কপি রেখে দিতে হবে। একটি কপি কম্পিউটারে এবং আরেকটি বাহ্যিক স্টোরেজ বা নির্ভরযোগ্য ক্লাউড স্টোরিজ অথবা কোন পেন ড্রাইভের রাখা যেতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ফল নিয়মিত মুছে ফেলুন : কম্পিউটারে কাজ করতে করতে অনেক সময় টেম্পারেচারে ফাইল ক্যাশ এবং অন্যান্য অস্থায়ী ডাটা জমে যেতে পারে। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে আপনার স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।
ইন্টারনেট থেকে পাওয়া কোন অচেনা পিসি ক্লিনার সফটওয়্যার ব্যবহার করার আগে অনেক বেশি সতর্ক থাকুন। কারণ সকল ক্লিনার সফটওয়্যার নিরাপদ নই। অপারেটিং সিস্টেমে থাকা নিজস্ব স্টোরিস ক্লিনার সুবিধা ব্যবহার করাই সাধারণত নিরাপদ পদ্ধতি মনে করি।
স্টাটআপ এপ কমিয়ে দেওয়া : কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় অনেক সফটওয়্যার এভাবে চলতে থাকে এর মধ্যে কিছু সফটওয়্যার আপনার জন্য পরে আবার অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। অপ্রয়োজনীয় স্ট্যাটাস এফ বন্ধ করলে কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় অনেকটা কমে যেতে পারে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে প্রোগ্রামের সংখ্যা কমে যাবে। তবে সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ এক অথবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রোগ্রাম বন্ধ করার আগে তা ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
কম্পিউটার সঠিক ভাবে বন্ধ করুন : কম্পিউটার ব্যবহারের পর সরাসরি পাওয়ার চেয়ে সিম বন্ধ করে দেওয়া একদমই উচিত না টিমের শার্টডাউন অথবা রিস্টার্ট অপশন ব্যবহার করতে হবে।
হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে ডাটা নষ্ট হওয়ার যোগ্য থাকতে পারে তাই ডেক্সটপ ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ইউপিএস ব্যবহার করতে পারেন বিশেষ করে যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্মৃতিশীল থাকেনা।
Mause ও কিবোর্ড পরিষ্কার রাখুন : কিবোর্ডে ধুলু খাবারের কনা অথবা ময়লা জমে যেতে পারে এতে কি আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোন মহিলা কি এর নিচে আটকে পড়ে তাহলে আপনার টাইপিং এর সমস্যা হতে পারে।
নরম হ্রাস অথবা উপযুক্ত পরিষ্কার করার সরঞ্জাম দিয়ে কিবোর্ড পরিষ্কার করতে হবে মিশরের অংশে ধুলো জমে রয়েছে কিনা তা ভালোভাবে চেক করতে হবে
মনিটর পরিষ্কার করার সময় সতর্ক থাকুন : মনিটরের স্কিন পরিষ্কার করার সময় শক্ত অথবা রক্ষক কাপড় ব্যবহার করা উচিত নয়৷ এতে করে মনিটরের স্ক্রিনে দাগ অথবা ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
নরম মাইক্রো ফাইবার কাপড় ব্যবহার করা ভালো পরিষ্কার করার সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করবেন না এতে করে মনিটরের ডিসপ্লে ভেঙ্গে যেতে পারে।
ল্যাপটপ সঠিকভাবে বহন করুন : ল্যাপটপ বহন করার সময় শুধুমাত্র স্ক্রিন ধরে তোলা উচিত না এতে স্কিনের হিজ অথবা কাঠামোর উপর অতিরিক্ত ছাপ পড়ে যেতে পারে।
ল্যাপটপ বহনের জন্য ভালো মানের বেত ব্যবহার করতে হবে বেগে রাখার আগে ল্যাপটপ সঠিকভাবে দেখিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
চার্জার ব্যবহারে সতর্ক থাকুন : ল্যাপটপের ক্ষেত্রে উপযুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য চার্জার ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নমানের বাবুল চার্জার ব্যবহার করলে চার্জিং সমস্যা অথবা ল্যাপটপের হার্ডওয়ারের সমস্যা হতে পারে।
চার্জারের তার ছিড়ে গেলে অথবা এটা আপনার অস্বাভাবিক গরম হয়ে গেলে সেটি ব্যবহার না করে পরীক্ষা করানো ভালো। প্রয়োজনে নতুন চার্জার ব্যবহার করবেন।
কম্পিউটারের উপর ভাড়ি বস্তু রাখবেন না : ল্যাপটপের উপর বাড়ি বসবে এবং অন্যান্য কোন বস্তু রাখার অভ্যাস থাকলে সেটা আজ বিভাগ যেদিন কারন স্কিন এবং কিবোর্ড এর উপর চাপ পড়ে যেতে পারে। ডেক্সটপ এর ক্ষেত্রেও কিসিং এর ব্যান্ড বন্ধ করে এমন কোন বস্তু উপরে না রাখা ভালো।
নিয়মিত রিস্টার্ট করুন : অনেক ব্যবহারকারী দিনের পর দিন কম্পিউটার রিস্টার্ট না করে শুধু সেলফ মোড ব্যবহার করেন। সব সময় এটি সমস্যা তৈরি করবে এমন না তবে মাঝে মাঝে রিস্টার্ট করলে সিস্টেমের অস্থায়ী সমস্যা থাকলে সেটা দূর হয়ে যেতে পারে এবং আপডেট সম্পন্ন হতে পারে
যদি আপনার মনে হয় কম্পিউটার অস্বাভাবিক দৃঢ় মনে হলে প্রথমের স্টার্ট করে দেখাও একটি সহজ সমাধান।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভ্যাস করুন : কম্পিউটার ভালো রাখার জন্য এক দিনে অনেক কিছু করার প্রয়োজন পড়ে না বরং ছোট ছোট কাজ নিয়মিত করা বেশি কার্যকর হয়।
প্রতি সপ্তাহে ডাউনলোড ও অপ্রয়োজনে ফাইল পরীক্ষা করতে পারেন প্রতি মাসে সফটওয়্যার স্টোরেজ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটারের বেতরের ধুলাবালু পরিষ্কার করবেন।
কম্পিউটার ব্যবহারে সঠিক পরিবেশ তৈরি করুন : কম্পিউটার রাখার জায়গা পরিষ্কার এবং শুকনো ও পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস চলাচলযুক্ত হওয়া উচিত। অতিরিক্ত আদ্রতা ধুলোবালি বা সরাসরি পানির স্পর্শ থেকে কম্পিউটারকে অবশ্যই দূরে রাখতে হবে।
ডেক্সটপ কম্পিউটারের কেসিং মে যেতে রাখলে ধুলোবালে দ্রুত জমতে পারে সম্ভব হলে পরিষ্কার এবং উপযুক্ত উচ্চতায় রাখতে হবে।
নতুন কম্পিউটার কেনার পর কী করবেন : নতুন কম্পিউটার কেনার পর প্রথমে অপারেটিং সিস্টেম এবং আপনার প্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যার আপডেট করে নিতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় এপ্লিকেশন ইন্সটল করবেন।
যে সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন না সেগুলো শুধু জায়গা দখল করে রাখার জন্য ইনস্টল করার কোন প্রয়োজন নেই। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রাখার জন্য শুরু থেকেই একটি ভালো ব্যাকআপ ব্যবস্থা তৈরি করলে ভবিষ্যতে ডেটা হারানোর কোন যুগে থাকবে না।
শেষ কথা
কম্পিউটার ভালো রাখার সহজ উপায় আসলে কঠিন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করা পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার করা ফাইল সরানো অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করা নিরাপদ ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকআপ রাখা এই কয়েকটি অভ্যাস কম্পিউটারকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করে।
আপনার কম্পিউটার ডেস্কটপ হোক অথবা ল্যাপটপ হোক প্রতিদিনের ব্যবহারে একটু সচেতন হলেই অনেক সাধারণ সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই সমস্যা হওয়ার পর মেরামত করার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভ্যাস তৈরি করুন। এতে করে আপনার কম্পিউটারের কর্ম ক্ষমতা ভালো রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময় ও সুরক্ষিত থাকবে।