সভ্যতার জন্ম লগ্ন থেকে মানুষ বিকাশের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে দেয়ালে দাগ কাটা কাটি নুড়িপাথর রশির গিট এমনকি আংগুলের গণনা হিসাব-নিকাশ করত মিশরীয় সভ্যতা প্রথম মোটামুটি পরিপূর্ণভাবে লেখার একটি কৌশল আবিষ্কার করেন,, সভ্যতার বিবর্তনে বা প্রকাশ ও হিসাব নিকাশ নানান ভাবে মানুষের নিকট পরিচিত লাভ করতে থাকে,, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে হিসাব নিকাশের নানান উপকরণ মানুষ আবিষ্কার শুরু করেন,, তবে মানব সভ্যতার বিকাশের পিছনে মিশরীয়দের অবদান অনস্বীকার্য প্রাচীন মিশরের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থাপত্য ও জীবনযাত্রার প্রভূত উন্নতি সাথে একটি উন্নত গণনা পদ্ধতি প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল,, আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব 3000 থেকে 3 হাজার 400 শব্দে মিশরীয়রা ভাষার সংখ্যা নির্দেশ করতে বিভিন্ন চিত্রলিপির সাহায্য এই চিত্রলিপি কে বলা হয় হায়ারোগ্লিফিক্স,, তবে এই লিপির সাহায্যে হিসাব-নিকাশ ছিল বেশ কষ্টসাধ্য,, আর এই কারনেই নতুন আরো একটি লেখা উদ্ভাবন করা হয় যেটা আগের থেকে অপেক্ষাকৃত সহজ এই লিপির নাম লেখা হয় হাই রুটিক লিপি,, এরপর মিশরীয়রা সংখ্যা লেখা শুরু করে ডিমুটিক লিপির সাহায্যে,, আর এই লিপি পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তন হয় মিশরীয়দের আধুনিক লিখন পদ্ধতির সূত্রপাত ঘটায়।
মিশরীয়দের পাশাপাশি গণিতশাস্ত্রে বেবিলিয়ন অদ্ভুত পূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল একদিকে জেমিতি শাস্ত্র বিকশিত হয়েছিল অন্যদিকে পাটিগণিত ও জ্যোতিবিদ্যা বিকশিত হয়েছিল ব্যাবিলনে বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আজও আমাদের মাঝে বিদ্যমান তবে বেবিলিয়ন রাম মিশরীয়দের মত শূন্যের ব্যবহার জানত না,, বেবি লিওন রা তাদের আকার প্রকাশ করত শাটের গনিতিক আকারে তাই বেবি লিওন সংখ্যা পদ্ধতি কে ষাটমূলক পদ্ধতিও বলা হয়।
গ্রীকরা অনেক ব্যাপারে ব্যাবিলন ও মিশরের দ্বারা প্রভাবিত হত,, তাই গণিতশাস্ত্রে গ্রীকরা ও মিশরের মত শূন্যের ব্যবহার করতে জানতো না,, তবে গ্রীকরা সংখ্যার জন্য কোন আলাদা প্রতীক উদ্ভাবন করেন নি বরং গ্রিক বর্ণমালা অক্ষর সাহায্য তার আশঙ্কা প্রকাশ করত।
গাণিতিক শাস্ত্রে রোমানদের অগ্রগতি ও খুবই ভালো ছিল রোমানরা শূন্যের ব্যবহার না জানলেও সংখ্যার ব্যবহারে তাদের উদ্ভাবিত চিহ্ন বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল আজও পর্যন্ত রোমান হরফ বেশ ব্যবহৃত সুপরিচিত বিশ্বের কাছে।
তবে উপরে উল্লেখিত সবগুলি সভ্যতার থেকে মায়া সভ্যতা ছিল অনেকটাই ব্যতিক্রম,, মায়া সভ্যতায় সংখ্যা পদ্ধতির বিকাশ ঘটেছিল একদম স্বতন্ত্রভাবে তাদের সংখ্যা পদ্ধতি ছিল 5 ভিত্তিক তবে মায়ানরা শূন্যের জন্য আলাদা প্রতীক ব্যবহার করত,, সে দিক থেকে চিন্তা করলে আধুনিক পদ্ধতির অনেক কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মায়ানরা তবে যোগ-বিয়োগের জন্য মায়ানদের পদ্ধতি বিশেষ সুবিধার ছিল না,
বর্তমানে আধুনিক বিশ্বে আমরা যে পদ্ধতিতে সংখ্যা লিখি সেটা প্রাচীন ভারতীয় ও আরবদের সম্বলিত অবদান 0 থেকে 9 পর্যন্ত দশটি প্রতীক ব্যবহার করে যে কোন সংখ্যা লেখার পদ্ধতি ভারতীয়রা আবিষ্কার করেছিলেন প্রায় 600 খ্রিস্টাব্দের দিকে যদিও খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের কি এই পদ্ধতির যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন,, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে আরবদের যোগাযোগ সেই সময় থেকেই ছিল ভারতীয় পদ্ধতিতে যোগ র হিসাব সে সময়ে আরবের প্রচলিত সিস্টেম এর চেয়ে অনেক সহজ ও কার্যকরী ছিল ফলে আরব বণিকদের মধ্যে এই শুন্য সম্বলিত লিখন পদ্ধতি প্রথম এবার থেকে আরবে যায় সেখান থেকে পাশ্চাত্য তথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে, বর্তমানে সংখ্যা লেখার জন্য পৃথিবীর সকল ভাষাতেই তার নিজস্ব স্টাইলে 0 থেকে 9 পর্যন্ত এই দশটি অংক সর্বজনীন স্বীকৃত ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই প্রতীকগুলোকে হিন্দু আরব নিউ মরালস বলা হয় আরবিতে শূন্যকে বলা হয় সী ফর রব বণিকদের কাছে সেখা 0 কে ইতালিয়ানরা ল্যাট্রিনে বলতো, জেপিরো, আর ল্যাটিন ভাষার জেপিরো থেকেই এসেছে ইংরেজি জিরো শব্দটি,, ইংরেজিতে সর্বপ্রথম জিরো শব্দটি ব্যবহার করা হয় 1598 সালে,
প্রিয় বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আল্লাহ হাফেজ